বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: ইরানের ওপর অবরোধে তেলের দাম ছাড়াল ১১১ ডলার
ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ বাড়ানোর মার্কিন পরিকল্পনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ দেখা গেছে। টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রেখে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেলের বাজারের বর্তমান চিত্র:
আন্তর্জাতিক বাজারে আগামী জুন মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৪৭ শতাংশ (৫২ সেন্ট) বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা আট দিন ব্রেন্ট সূচকের দাম বাড়ল। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) জুন ফিউচারের দামও ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
অবরোধ ও ট্রাম্পের কৌশল:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল ঠেকিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানে নতুন করে বোমা হামলা শুরু করার চেয়ে অবরোধ চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সংঘাত ও আলোচনার পটভূমি:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়, যার প্রভাব পড়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
তবে গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করবেন না। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থাই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বর্তমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।




