জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার এবং অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর আমাদের মাঝে নেই। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনা কায়সারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।
গত শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) রাতে তাঁর পিতা, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক কায়সার হামিদ গণমাধ্যমে এই শোকাবহ মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
বেশ কিছুদিন ধরে কারিনা গুরুতর লিভারের জটিলতা নিয়ে ভুগছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুরুতে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন এবং পরে তাঁর শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তাঁর লিভার ফেইলিওর (Liver failure) দেখা দেয়।

অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার আশায় গত সোমবার (১১ মে) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত তাঁর চেন্নাইয়ে মৃত্যু ঘটে।
চেন্নাইয়ের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁর ফুসফুসের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন এবং একইসঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কারিনার মা লোপা কায়সার এবং দুই ভাই, মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় কারিনার রক্তচাপ হঠাৎ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রসবোধ, স্যাটায়ার এবং বাস্তবমুখী কনটেন্টের জন্য তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন কারিনা। বডি শেমিং, নারীদের গাড়ি চালানো নিয়ে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে তিনি সাবলীলভাবে কথা বলতেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি তিনি বিনোদন জগতে অভিনেত্রী এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও প্রশংসিত হয়েছিলেন। চরকির জনপ্রিয় অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ (যার চিত্রনাট্যও তিনি লিখেছিলেন) এবং রেজাউর রহমান পরিচালিত ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের সিনেমা ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ তাঁর কাজ দর্শকদের কাছে দারুণ সাড়া ফেলেছিল।

এই সিনেমায় প্রার্থনা ফারদিন দীঘি ও সৈয়দ জামান শাওনের পাশাপাশি তিনি বডি পজিটিভিটি এবং আত্মবিশ্বাসের বার্তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
কারিনা ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাস্টার রানি হামিদের নাতনি। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর ভুয়া গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, যা নিয়ে তাঁর পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল এবং মানুষকে এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই গুজবই নিদারুণ সত্যে পরিণত হলো। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গন, সহকর্মী এবং অগুনতি ভক্তের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে



