ভোর থেকেই ঝুম বৃষ্টি, স্থবির জনজীবন মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকার আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা ছিল এবং বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোরের আলো ফোটার আগেই, সকাল পৌনে সাতটার দিকে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি ।
এই ভারী বর্ষণের ফলে শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় যদিও এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে, তবে দিনের শুরুতেই অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।

তলিয়ে গেছে রাজধানীর বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি এবং মিরপুর-১৩ সহ বহু এলাকা হাঁটুসমান পানির নিচে তলিয়ে যায় ।
এছাড়া হাতিরঝিল, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট, খামারবাড়ি-ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, মেরুল বাড্ডা ও কালশীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও তীব্র জলজট দেখা দেয় । কোথাও কোথাও পানি নামতে শুরু করলেও অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে ।
গণপরিবহন সংকট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ
সকাল থেকেই রাস্তায় গণপরিবহনের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম [২]। জলজটের কারণে যেসব যানবাহন চলাচল করেছে, সেগুলোকেও অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের রাস্তায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় । নিরুপায় হয়ে অনেকেই ভিজে হেঁটে অথবা বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন । দমকা বাতাসে ছাতা থাকা সত্ত্বেও অনেক পথচারীকে ভিজতে দেখা যায় এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ভবন বা দোকানের নিচে আশ্রয় নেন।

কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
বৃষ্টির কারণে মানুষের দৈনন্দিন আয়ের ওপরও প্রভাব পড়েছে। মহাখালীর সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে এবং রাস্তায় পানি জমে থাকায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে ট্রিপ অনেক কমে গেছে । অন্যদিকে গুলশানের বেসরকারি চাকরিজীবী এহসানুল হক জানান, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মানুষ খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না । বৃষ্টি ও জলজটের এই সুযোগে রাস্তায় রিকশার সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে ।


