গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ২০৫ জন
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। দেশজুড়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, যা অভিভাবকদের মাঝে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই দেশে হামে শিশু মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১১ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই ১১ জন মৃত শিশুর মধ্যে ৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এবং বাকি ৪ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এই চারজন নিশ্চিত হামে মারা যাওয়া শিশুর মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের।
অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ঢাকা বিভাগে হাম এর প্রকোপ যে কতটা মারাত্মক, তা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২০৫টি শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ৫০৩টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই রয়েছে ৪৯৬ জন শিশু।

বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি-র সার্বিক চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ১৫৯টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এই বিপুল সংখ্যক শিশুর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ জন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসা শেষে এই পর্যন্ত ৩০ হাজার ৮৬২ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন শিশু, যার মধ্যে ৪৪৩ জন শিশু ঢাকা বিভাগের।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৫ জন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। মহামারী আকার ধারণ করার আগেই হামে শিশু মৃত্যু রোধে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।



