বর্তমান সময়ে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশে হামের প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (অর্থাৎ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১২ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত ১২ শিশুর মধ্যে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাত্র একজনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং বাকি ১১ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছে।
সংক্রমণের এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, উল্লিখিত ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
যদি আমরা এই মৃত্যুর ভৌগোলিক পরিসংখ্যানের দিকে গভীরভাবে তাকাই, তবে দেখা যায় ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ জন শিশুই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
এছাড়াও অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ২ জন শিশু মারা গেছে এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩৬ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলো, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। তবে, এই গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অসংখ্য শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও, তাদের যথাযথ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হারও বেশ সন্তোষজনক বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।



