কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে একের পর এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দেওয়া কঠোর সতর্কতা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ওই জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এই ভয়াবহ হামলা পরিচালনা করে। অভাবনীয় এই হামলার খবর সামনে আসার পর রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স্ট নিউজ এই হামলার বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি যখন ইরানের জাস্ক দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে নিখুঁত নিশানায় একের পর এক মিসাইল ছোড়া হয়। এই হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি তার দিশা হারিয়ে ফেলে এবং বাধ্য হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার পূর্বনির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালীতে যেসব জাহাজ আটকে পড়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে বের করে আনবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছিল যে, কোনো বিদেশি জাহাজ যদি অনধিকার প্রবেশ করে, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই সংঘাতের পটভূমিতে রয়েছে এক ভঙ্গুর শান্তি চুক্তি। দীর্ঘ ৪০ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তিটি ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে এবং অভিযোগ উঠেছে যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক পরের দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে।

একই সঙ্গে আরব সাগর থেকে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরম সীমায় পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও উসকানিমূলক পদক্ষেপই মূলত সোমবারের এই হামলাকে অনিবার্য করে তুলেছে।
উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক বিশেষ আলোচনায় বসেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ইসলামাবাদের সেই ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি রণতরিতে হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটলো।

একদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাত—সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরে এখন বড় ধরনের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



