দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি ও বিপুল আর্থিক লোকসান কমানোর লক্ষ্যে পাইকারি পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
এই প্রস্তাবনায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ন্যূনতম ১৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পিডিবির পক্ষ থেকে এই আবেদনের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি তার বক্তব্যে জানান, “আমরা পিডিবির প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছি। সেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। এখন আমাদের কারিগরি কমিটি পিডিবির প্রস্তাব ও এর যৌক্তিকতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে”।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পিডিবির বর্তমান প্রস্তাবনা অনুযায়ী যদি ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে, বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির একটি বাস্তবসম্মত সুপারিশ করার জন্য গত ৯ এপ্রিল ৬ সদস্যের একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির পর্যালোচনার ধারাবাহিকতাতেই পিডিবির তরফ থেকে নতুন করে এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
পিডিবির প্রস্তাবে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি কমার একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। পিডিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফ যদি ইউনিটপ্রতি মাত্র ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের বিশাল অংকের ভর্তুকি কমে যাবে, যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
একইভাবে, ইউনিটপ্রতি দাম ১ টাকা বাড়ানো হলে সরকারের ভর্তুকি ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা হ্রাস পাবে। আর যদি প্রস্তাবিত হারে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ানো সম্ভব হয়, তবে ভর্তুকি ব্যাপকভাবে কমে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই সময় খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
যার ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় পাইকারি দাম ৬ দশমিক ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ কমাতে এই পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পিডিবি। এখন দেখার বিষয়, বিইআরসি কারিগরি কমিটির পর্যালোচনার পর নতুন করে কত শতাংশ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।



