গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টার দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবে হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের সার্বিক পরিস্থিতি সংস্থাটির তথ্যমতে, নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার, হবিগঞ্জ সদরে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারতের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মেঘালয় ও আসামেও মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার মধ্যে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বিপৎসীমার উপরে থাকা নদ-নদীর বিস্তারিত তথ্য
- সুনামগঞ্জ জেলা: জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের অন্যান্য নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে।
- নেত্রকোনা জেলা: জারিয়াজঞ্জাইলে ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপরে অবস্থান করছে। এছাড়া জারিয়াজঞ্জাইলে ভুগাই-কংশ নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। নেত্রকোনা সদরে মগরা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং আটপাড়ায় একই নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- হবিগঞ্জ জেলা: আজমিরীগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার সুতাং রেলসেতু এলাকায় সুতাং নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে



