২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক নজিরবিহীন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে ।
পেন্টাগন সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে, এই কৌশলগত জলপথ থেকে ইরানের সামুদ্রিক মাইন সরাতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগতে পারে ।
এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব এই বছরের শেষ পর্যন্ত বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ, যার মাধ্যমে সাধারণত বিশ্বের সমুদ্রবাহী অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০% পরিবাহিত হয় ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ইরান জিপিএস প্রযুক্তি এবং তাদের ছোট নৌকার (“মশা বহর”) সাহায্যে দূর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে এই মাইনগুলো স্থাপন করেছে, যা শনাক্ত করা এবং নিরাপদে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন|
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাইন অপসারণের বড় কোনো অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই ।
এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এছাড়া, এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য সামুদ্রিক বীমা (Maritime Insurance) প্রিমিয়াম ০.৫% থেকে বেড়ে জাহাজের মোট মূল্যের প্রায় ৩% এ দাঁড়িয়েছে ।
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, প্রণালীটি টানা ছয় মাস বন্ধ থাকলে বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি ভয়াবহ মন্দার দিকে ঠেলে দেবে ।
এই সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং মানুষ আতঙ্কে জ্বালানি মজুদ করছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির মাত্রাও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও পরিস্থিতি এখনও একটি অস্থিতিশীল অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,
যতদিন পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বজায় থাকবে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হবে, ততদিন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া অসম্ভব। যতক্ষণ পর্যন্ত মাইনগুলো পরিষ্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হচ্ছে, বিশ্ববাসীকে আকাশচুম্বী জ্বালানি খরচ এবং একটি অবশ্যম্ভাবী বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।




