ইলন মাস্কের নতুন মেসেজিং অ্যাপ 'এক্সচ্যাট' (XChat) চালু: হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (X) সম্প্রতি আইওএস (iOS) ব্যবহারকারীদের জন্য 'এক্সচ্যাট' (XChat) নামের একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাইভেট মেসেজিং অ্যাপ চালু করেছে। এটি মূলত হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল এবং টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর একটি শক্তিশালী এবং প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক বিকল্প হিসেবে বাজারে আনা হয়েছে।
লঞ্চ এবং উপলব্ধতা (Launch and Availability) অ্যাপটি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আইফোন এবং আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি শুধুমাত্র আইওএস ডিভাইসেই সীমাবদ্ধ (যাদের আইওএস ২৬ বা তার উপরের ভার্সন আছে) এবং অ্যান্ড্রয়েড, ওয়েব বা ডেস্কটপ ভার্সনের কোনো রিলিজের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। অ্যাপটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং এটি পুরোপুরি বিজ্ঞাপনমুক্ত। এক্সচ্যাট ব্যবহার করার জন্য কোনো ফোন নম্বরের প্রয়োজন নেই; ব্যবহারকারীরা তাদের বিদ্যমান এক্স (X) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সরাসরি লগইন করতে পারবেন।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)
'এভরিথিং অ্যাপ' ভিশন (The 'Everything App' Vision) এক্সচ্যাট কেবল একটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপ নয়, এটি ইলন মাস্কের এক্স-কে চীনের 'উইচ্যাট' (WeChat)-এর মতো একটি 'এভরিথিং অ্যাপ' (Everything app) বা মাল্টিপারপাস অ্যাপে পরিণত করার বৃহত্তর লক্ষ্যের একটি অন্যতম অংশ। ভবিষ্যতে এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই পিয়ার-টু-পিয়ার পেমেন্ট এবং বাণিজ্যিক লেনদেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা 'এক্স মানি অ্যাকাউন্টস' (X Money Accounts)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ (Security Concerns) অ্যাপটি প্রাইভেসি নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও, কিছু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এর বর্তমান এনক্রিপশন মডেল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিগন্যাল (Signal)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীর প্রাইভেট ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি (Private key) লোকাল ডিভাইসে সেভ করে রাখে, সেখানে এক্সচ্যাট ব্যবহারকারীদের কি নিজেদের সার্ভারে সেভ করে, যা শুধুমাত্র একটি ৪-ডিজিটের পিন (PIN) দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞরা একে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত এনক্রিপশন সেবার তুলনায় দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া, অ্যাপটিকে "বিটকয়েন-স্টাইল এনক্রিপশন" দ্বারা সুরক্ষিত বলে যে দাবি করা হয়েছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিটকয়েনের ব্লকচেইনে এনক্রিপশন নয় বরং ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহৃত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন।