বর্তমান সময়ে 'কনটেন্ট ক্রিয়েটর' পরিচয়ে অনেকেই যত্রতত্র মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং অনুমতি ছাড়াই সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার শিরোনামে প্রচার করছেন।
এর ফলে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির মতো ঘটনাও ঘটছে। ডিজিটাল মাধ্যমে এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও হয়রানি বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে নতুন 'সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬' পাস হয়েছে। নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক প্রশ্নের জবাবে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই আইনে অপরাধের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
অপরাধ ও শাস্তির কঠোর বিধান নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫(১) ধারা অনুযায়ী, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে কোনো ভিডিও, চিত্র বা তথ্য প্রচার করা অথবা প্রচারের হুমকি দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ ও দ্রুত গ্রেপ্তার আইনের ধারা ৩৫ অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, সরঞ্জাম জব্দ এবং অপরাধীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক যেকোনো ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়েল-টাইমে অপরাধ শনাক্ত করতে ক্লাউডভিত্তিক সিকিউরিটি সলিউশন ও উন্নত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ব্যবহার করা হবে। আন্তর্জাতিক পরিসরে অপরাধ হলেও পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ প্রয়োগ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
আইনের অপব্যবহার রোধ সাংবাদিক, ব্লগার বা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহার রোধেও সুরক্ষা রাখা হয়েছে। ধারা ২৮ অনুযায়ী, কেউ যদি হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করেন, তবে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ড মিথ্যা অভিযোগকারীর ওপরই বর্তাবে। সব মিলিয়ে সাইবার স্পেস নিরাপদ করতে এই আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।